দ্রুতি (speed):কোনো বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সাধারণভাবে তাকে দ্রুতি বলে। প্রকৃতপক্ষে একটি বস্তুর বেগের মানই হচ্ছে তার দ্রুতির পরিমাপ। অন্য কথায়: একটি বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকেই দ্রুতি বলা যেতে পারে। ক্যালকুলাস অনুযায়ী, দ্রুতি হলো সময়ের সাথে দূরত্বের পরিবর্তনের হার। দ্রুতি একটি স্কেলার রাশি; অর্থাৎ এর কোনো দিক নেই। কারণ দূরত্বেরও কোনো দিক নেই, ...
বেগ এবং ত্বরণের মধ্যে পার্থক্য
বেগ (Velocity):গতিবেগ বা বেগ হল সময়ের সাপেক্ষে কোন বস্তুর সরণের হার। নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর দ্রুতিকেই তার গতিবেগ বলা হয়। অর্থাৎ বেগ হল প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের হার এবং সেই সাথে সময়ের একটি ফাংশন। বেগ একটি সদিক রাশি, আর দ্রুতি হল অদিক রাশি। চিরায়ত বলবিদ্যায় গতিবিদ্যার মৌলিক ধারণাগুলোর মধ্যে বেগ একটি। যেমন 10 m/s উত্তর দিকে হল কোন বস্তুর বেগে। গতিবেগকে ...
বাষ্পীভবনঃবাষ্পীভবন বা যৌগের বাষ্পীকরণ হল পদার্থকে তরল পর্যায় থেকে বাষ্পে পর্যায়ে রূপান্তর । বাষ্পীভবনের দুটি প্রকার রয়েছে:(১) বাষ্পে পরিনত(২) ফুটন ।বাষ্পীভবন একটি পাত্রে ঘটে, যেখানে ফুটন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাষ্পীভবন হ’ল তরল পর্যায় থেকে বাষ্প পর্যায়ে রূপান্তর । বাষ্পীভবন হবার সময় প্রদত্ত চাপে স্ফুটনাংকের নীচের তাপমাত্রায় ঘটে। বাষ্পীভবন পৃষ্ঠতলে ঘটে। বাষ্পীভবন তখনই ...
কাজ ও শক্তির মধ্যে পার্থক্য
কাজ (Work):আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ‘কাজ’ ও ‘শক্তি’ বহুল ব্যবহৃত দুটি শব্দ। কৃষক মাঠে কাজ করে ফসল উৎপাদন করেন, শ্রমিক কারখানায় কাজ করেন। শিল্পী ক্যানভাসে প্রকৃতিকে তুলে ধরেন, বৈমাণিক বিমান চালিয়ে মানুষকে একমহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে স্থানান্তর করেন। আবার যার শক্তি বেশি সে বেশি কাজ করতে পারে এমন বিশ্বাস আমাদের সকলেরই আছে। যাদের শারিরীক সামর্থ্য বেশি তারা বেশি পরিশ্রম করতে পারে, বেশি ...
তরঙ্গ ও শব্দের মধ্যে পার্থক্য
তরঙ্গ (Wave):পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে এক টুকরো ঢিল ফেললে চারিদিকে পানির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। সমুদ্রের সৈকতে বা বিশাল জলাশয়ের পাড়ে পানির ঢেউ আছড়ে পড়ে। এই ঢেউ বিজ্ঞানের ভাষায় তরঙ্গ। আমাদের চারিদিকে বিভিন্ন রকম তরঙ্গের মধ্যে একটি হলো পানির তরঙ্গ। অন্যান্য তরঙ্গ হলো শব্দ তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, বিভিন্ন ধরনের তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি। তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চারিত হয়। পুকুরের ...
স্কেলার রাশি (scalar):যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পুর্ণ ভাবে প্রকাশ করা যায়, দিক নিদের্শের প্রয়োজন হয়না তাদের স্কেলার রাশি বলে। দ্রুতি, কাজ, ক্ষমতা, শক্তি, ঘনত্ব, তাপ, তাপমাত্রা, ভর ,সময়, আয়তন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য, কম্পাংক, বিস্তার, দীপনমাত্রা, দীপন ক্ষমতা, বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা, রোধ, চার্জ, জনসংখ্যা, মৃত্যুহার, জন্মহার, প্রতিসরাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক, চৌম্বক বিভব,বৈদ্যুতিক বিভব, বিচ্যুতি ...
ডিএনএ (DNA):ডোসিরিবোনউইক্লিক এসিড (DNA) হল সকল ইউক্যারিয়টের জিনগত উপাদান এবং কিছু প্রোকিওরোট। এটি একটি নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল যা প্যারেন্টস দ্বারা আবদ্ধ একটি প্যান্টোস চিনি দ্বারা আবদ্ধ। ডিএনএ (DNA) নিউক্লিওটাইড অ্যাডেনাইন, থিমিন, সাইটোসাইন এবং গুয়েনের তৈরি।ডিএনএ(DNA) মূলত দুটি নিউক্লিওটাইডের সাথে দ্বিগুণ। এডিনাইন (A) থীমাইন (T) এর সাথে জোড়া এবং গায়ানা (G) সাথে সায়োটাসিন (C) ...
উদ্ভিদকোষঃউদ্ভিদকোষ, মূলত ইউক্যারিওটিক প্রকৃতির। একটি আদর্শ উদ্ভিদ কোষ বিভিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত-কোষ প্রাচীর,কোষ ঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস ।প্রাণী কোষঃকোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক। ইট দিয়ে যেমন ইমারত তৈরি হয় তেমনি কোষ আমাদের দেহ গঠন করে। যে কোষ প্রাণী দেহ গঠন করে তাকে প্রাণী কোষ বলে।প্রাণীকোষ এবং উদ্ভিদ কোষের মধ্যে পার্থক্যঃ১। প্রাণীর কোষগুলি সাধারণত উদ্ভিদের কোষের চেয়ে ...
অণু ও পরমাণু এর মধ্যে পার্থক্য
পরমাণু হল পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা। যদিও এখন এর থেকেও ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যায় পদার্থে। একটা পদার্থকে ভাংলে পাওয়া যায় তার অণু। এই অণুকে ভাংলে পাওয়া যায় তার পরমাণু। সুতরাং, অণু আসলে পরমাণু দিয়ে গঠিত। সহজভাবে বলা যায় যে, পরমাণু হল অণুর ক্ষুদ্রতম একক। আবার পরমাণুকে ভাংলে কণিকা পাওয়া যাবে যেগুলা পরমাণু থেকেও ছোট।অণুঅণু শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র। মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ...
মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য
যে পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করলে ওই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তা-ই মৌলিক পদার্থ। যেমন: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), লৌহ (Fe) ইত্যাদি। কার্বনকে যত ভাগে ভাগ করা হোক না কেন কার্বনই পাওয়া যাবে। একইভাবে হাইড্রোজেনকে ভাগ করলেও শুধু হাইড্রোজেনই পাওয়া যায়। আর যৌগিক পদার্থ হলো সেই সকল পদার্থ, যাদেরকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করলে একাধিক মৌলিক পদার্থ ...
এসিড এবং ক্ষারের মধ্যে পার্থক্য
আমাদের শরীরে যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তাদোর মধ্যে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ । এছাড়া কোনো একটা দ্রবণের pH কত সেটার উপর ভিত্তি করে সেই দ্রবণটিকে ক্ষারীয় বলা হয় । তাই pH আমাদোর শরীরের একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় । এছাড়া প্রোটিন এবং DNA এর সর্বশেষ গঠন কেমন হবে সেটাও নির্ভর করে pH এর মানের উপর ।এসিডএসিড হচ্ছে একটি রাসায়নিক পদার্থ। যৌগের অণুতে এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় ...
অরবিট ও অরবিটাল এর মধ্যে পার্থক্য
অরবিট(Orbit)ঃপরমাণুতে নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে ইলেকট্রন আবর্তনের জন্য কতগুলো নির্দিষ্ট শক্তি বিশিষ্ট কক্ষপথ রয়েছে। এদের প্রধান শক্তিস্তর বা শেল বলে। এই প্রধান শক্তি স্তরই অরবিট নামে পরিচিত।অরবিটাল(Orbital)ঃনিউক্লিয়াসের চারদিকে যে নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক স্থানে কোন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি থাকে তাকে অরবিটাল বলে। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে ইলেকট্রনের ...
যৌগ ও মূলকের মধ্যে পার্থক্য
মূলকঃএকাধিক মৌলের একাধিক পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি পরমাণু গুচ্ছ যা একটি আয়নের ন্যায় আচরণ করে এবং বিক্রিয়া শেষে অপরিবর্তিত থাকে, সেসব পরমাণু গুচ্ছকে যৌগমূলক বলে। যেমনঃ সালফেট (SO₄² – ) যৌগমূলক। কারণ এখানে সালফার ও অক্সিজেন এই দুটি মৌলের পাঁচটি পরমাণু যুক্ত হয়ে একটি পরমাণু গুচ্ছ গঠন করে যার নির্দিষ্ট আধান -2 আছে। যৌগমূলকের যে চার্জ বা আধান থাকে সেই চার্জ বা আধান থেকে ধনাত্মক ...
স্থূল সংকেত (Empirical Formulae):যে সংকেত অণুতে বর্তমান বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সরল অনুপাত প্রকাশ করে তাকে স্থূল সংকেত বলে। উদাহরণস্বরূপ, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)-এর অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও দুটি অক্সিজেন পরমাণু আছে এবং পরমাণুগুলোর সংখ্যার অনুপাত হচ্ছে ১ঃ১। সুতরাং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের স্থূল সংকেত HO। অনুরূপভাবে বেনজিন ও এসিটিলিনের স্থুল সংকেত CH। পদার্থের অণুতে বিভিন্ন ...
ক্ষার এবং ক্ষারকের মধ্যে পার্থক্য
ক্ষারঃযে সব ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাকেই ক্ষার বলে। অর্থাৎ ক্ষার একটি ক্ষারীয় ধাতু বা ক্ষারীয় ধাতব ধাতুর উপাদানগুলির একটি মৌলিক হাইড্রক্সাইড বা আয়নিক লবণ, যা পানিতে দ্রবণীয়। জলে দ্রবণীয় ক্ষারকীয় ধর্ম বিশিষ্ট ধাতব হাইড্রক্সাইডকে ক্ষার (Alkali) বলে । যেমন – ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড (Ca(OH)2, টাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH), সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড ...
সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm):সাইটোপ্লাজম হচ্ছে কোষের ভেতরে বেশির ভাগ অংশ জুড়ে অবস্থিত স্বচ্ছ, সমসত্ব, জেলি-সদৃশ পদার্থ। সাইটোপ্লাজমের অভ্যন্তরে অবস্থিত কোষের বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়াকলাপের সাথে সংশ্লিষ্ট সজীব বস্তুসমূহকে একত্রে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বলা হয় । সাইটোপ্লাজমের ৮০ শতাংশই পানি এবং সাধারণত বর্ণহীন।১৮৬২ সালে বিজ্ঞানী রুডলফ ভন কলিকার সর্বপ্রথম সাইটোপ্লাজম শব্দটি ব্যবহার ...
ঐচ্ছিক পেশী (Skeletal striated muscle):যে পেশী অনুপ্রস্থে রেখাযুক্ত ও ব্যক্তির ইছামত নিয়ন্ত্রিত হয়,এবং যা দেহের কঙ্কালের উপর থাকে তাকে ঐচ্ছিক পেশী বা কঙ্কাল পেশী বা সরেখ পেশী বলে। প্রতিদিন এক থেকে দুই শতাংশের মধ্যে পেশী ভেঙে পুনর্নির্মাণ হয়। নিষ্ক্রিয়তা, অপুষ্টি, রোগ এবং জরাগ্রস্ততাজনিত ভাঙ্গন পেশী সংশ্লেষ বা সারকোপেনিয়ার দিকে ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে । কঙ্কাল পেশীগুলি দেহের ...
স্ফুটানাঙ্কঃউইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে স্ফুটানাঙ্ক হলো একটি তাপমাত্রা যাতে পৌঁছালে তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়। অতঃএব, যে তাপমাত্রায় কোন তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে উক্ত পদার্থের ‘স্ফুটানাঙ্ক’ বলা হয়। অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় কোন তরল পদার্থের বাষ্পীয় চাপ এক বায়ুমণ্ডল (1 atm) চাপের সমান হয় এবং তরলটি বুদবুদসহ ফুটতে থাকে,তাকে সেই তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক ...